মোংলা থেকে সুন্দরবনে কিভাবে যাব | সম্পূর্ণ সুন্দরবন ভ্রমণ গাইড ২০২৫
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন সুন্দরবন—এমন এক রহস্যময় সবুজ বন যেখানে নদী, গাছপালা, পশুপাখি আর নিসর্গের মিলনে সৃষ্টি হয়েছে এক জাদুময় পৃথিবী। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন আজ শুধু বাংলাদেশের নয়, সমগ্র বিশ্বের গর্ব।
প্রতিদিন অসংখ্য দেশি–বিদেশি পর্যটক এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন, আর তাদের বেশিরভাগের যাত্রা শুরু হয় মোংলা বন্দর থেকে।
তাহলে চলো জেনে নিই —
👉 মোংলা থেকে সুন্দরবনে কিভাবে যাব?
👉 কোন রুট সবচেয়ে ভালো?
👉 খরচ, সময়, থাকার ব্যবস্থা, পারমিট — সবকিছু একসাথে এই ব্লগে।
সুন্দরবন কোথায় অবস্থিত?
সুন্দরবন অবস্থিত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার অংশজুড়ে।
এর পশ্চিমে ভারতীয় সুন্দরবন, আর পূর্বে মোংলা ও পায়রা নদী প্রবাহিত হয়েছে।
-
মোট আয়তন: প্রায় ১০,০০০ বর্গ কিলোমিটার
-
বাংলাদেশ অংশ: প্রায় ৬,০১৭ বর্গ কিলোমিটার
-
বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত: UNESCO, ১৯৯৭ সালে
মোংলা কোথায় এবং কেন এখান থেকে সুন্দরবনে যাওয়া সহজ?
মোংলা বন্দর বাগেরহাট জেলার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং এটি সুন্দরবনের সবচেয়ে নিকটবর্তী শহর।
এখান থেকে মাত্র ২০–৩০ মিনিটের নৌযাত্রায় সুন্দরবনের প্রবেশপথে পৌঁছানো যায় — যেমন করমজল ইকো ট্যুরিজম সেন্টার বা হারবারিয়া ফরেস্ট অফিস।
তাই যারা সুন্দরবন ভ্রমণ পরিকল্পনা করেন, তাদের জন্য মোংলা হল আদর্শ যাত্রা শুরু করার পয়েন্ট।
মোংলা থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার প্রধান রুট
মোংলা থেকে সুন্দরবনে যাওয়ার একাধিক রুট আছে। নিচে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরাপদ রুটগুলো দেওয়া হলো 👇
| রুট নাম | দূরত্ব | সময় লাগে | পরিবহন মাধ্যম |
|---|---|---|---|
| মোংলা → করমজল | ২০–২৫ মিনিট | ৩০ মিনিট | নৌকা / ট্রলার |
| মোংলা → হারবারিয়া | ২ ঘন্টা | ২ ঘন্টা | নৌকা / ট্রলার |
| মোংলা → কাটকা | ৫ ঘন্টা | ৫–৬ ঘন্টা | লঞ্চ / বড় নৌকা |
| মোংলা → কোচিখালী | ৬–৭ ঘন্টা | ৭ ঘন্টা | লঞ্চ / ট্রলার |
| মোংলা → হিরণ পয়েন্ট | ৮ ঘন্টা | ৮–৯ ঘন্টা | লঞ্চ / বড় ট্রলার |
১. করমজল ইকো ট্যুরিজম সেন্টার
যদি তুমি একদিনের ছোট ট্যুর করতে চাও, তাহলে করমজল সবচেয়ে উপযুক্ত গন্তব্য।
মোংলা বন্দর থেকে দূরত্ব: প্রায় ৮ কিলোমিটার
যাত্রার সময়: ২০–৩০ মিনিট
যেভাবে যাবে:
-
মোংলা নদীর ঘাট থেকে নৌকা / ট্রলার ভাড়া নিয়ে যাওয়া যায়।
-
সুন্দরবন ফরেস্ট বিভাগের অনুমতি (permit) নিতে হয়।
করমজলে যা দেখা যাবে:
-
হরিণ প্রজনন কেন্দ্র
-
কুমির সংরক্ষণ কেন্দ্র
-
ওয়াচ টাওয়ার থেকে বনের দৃশ্য
-
কাঠের ওয়াকওয়ে
২. হারবারিয়া ফরেস্ট স্টেশন
হারবারিয়া হল সুন্দরবনের আরও গভীর অংশ, করমজল থেকে প্রায় ২৫–৩০ কিলোমিটার ভিতরে।
এখানে তুমি সত্যিকারের বনের নিসর্গ, বন্যপ্রাণী ও নদীজীবন উপভোগ করতে পারবে।
যাত্রার সময়: ২–২.৫ ঘন্টা
বিশেষ আকর্ষণ:
-
হারবারিয়া ওয়াচ টাওয়ার
-
চিত্রা হরিণ, বানর, পাখি
-
ঘন বন আর নদীপথ
৩. কাটকা ও কোচিখালী
এই দুই এলাকা সুন্দরবনের হৃদয় বলা হয়।
এখানে সবচেয়ে বেশি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রা হরিণ এবং বন্যপ্রাণী দেখা যায়।
মোংলা থেকে দূরত্ব: প্রায় ৭৫–৮০ কিমি
যাত্রার সময়: ৫–৬ ঘন্টা
ভ্রমণ সময়: ২ রাত ৩ দিনের ট্যুরে এই এলাকা ঘোরা যায়।
৪. হিরণ পয়েন্ট
হিরণ পয়েন্ট (Nilkamal) UNESCO–এর World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃত।
এখানে নদী, বন আর প্রাণীর সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে অপূর্ব দৃশ্যপট।
যাত্রার সময়: প্রায় ৮ ঘন্টা
দর্শনীয় স্থান:
-
ওয়াচ টাওয়ার
-
নদীর মোহনায় সূর্যাস্ত দৃশ্য
-
পাখির অভয়ারণ্য
মোংলা থেকে সুন্দরবন ভ্রমণের উপায়
🔸 নৌকা / ট্রলার
-
১০–১৫ জনের ছোট দলে উপযুক্ত
-
ভাড়া: ৫,০০০ – ১৫,০০০ টাকা (দূরত্ব অনুযায়ী)
-
একদিনে করমজল পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব
🔸 বড় লঞ্চ / ক্রুজ
-
গ্রুপ ট্যুর বা ২–৩ দিনের সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত
-
ভাড়া: ২৫,০০০ – ৬০,০০০ টাকা (গ্রুপ অনুযায়ী)
-
থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকে
🔸 প্যাকেজ ট্যুর (সবচেয়ে জনপ্রিয়)
Pirates of the Sundarban–এর মতো নির্ভরযোগ্য ট্যুর এজেন্সি থেকে প্যাকেজ নিতে পারো।
এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে:
-
নৌযান ও গাইড
-
পারমিট ও নিরাপত্তা
-
খাবার ও থাকার ব্যবস্থা
সুন্দরবন ভ্রমণের আনুমানিক খরচ
| ভ্রমণের ধরন | আনুমানিক খরচ (প্রতি ব্যক্তি) |
|---|---|
| একদিনের ট্যুর (করমজল) | ৮০০ – ১২০০ টাকা |
| ২ দিন ১ রাত | ৩,৫০০ – ৫,০০০ টাকা |
| ৩ দিন ২ রাত | ৬,০০০ – ১০,০০০ টাকা |
| প্রাইভেট লঞ্চ প্যাকেজ | ২৫,০০০ – ৫০,০০০ টাকা (গ্রুপভিত্তিক) |
খাবার ও থাকার ব্যবস্থা
-
মোংলা শহরে: ভালো মানের হোটেল যেমন হোটেল পাশা, হোটেল সিটি ইন, সাইমন ট্যুরিস্ট লজ
-
সুন্দরবনের ভেতরে: লঞ্চ বা ট্রলারেই খাবার ও থাকার ব্যবস্থা
-
সাধারণত দেশি খাবার — ভাত, মাছ, ডাল, চিংড়ি, শুটকি পরিবেশন করা হয়।
ভ্রমণের জন্য প্রস্তুতি
-
জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট কপি
-
সূর্যের আলো থেকে বাঁচার জন্য টুপি ও সানগ্লাস
-
মশা প্রতিরোধক লোশন
-
প্রয়োজনীয় ওষুধ ও শুকনো খাবার
-
ক্যামেরা ও পাওয়ার ব্যাংক
নিরাপত্তা নির্দেশনা
-
ফরেস্ট বিভাগের অনুমতি ছাড়া সুন্দরবনে প্রবেশ কোরো না
-
বন রক্ষী ও গাইডের নির্দেশ মেনে চল
-
আবর্জনা ফেলা নিষেধ
-
বন্যপ্রাণীর কাছে যেও না বা ফ্ল্যাশ দিয়ে ছবি তুলো না
সুন্দরবন ভ্রমণের সেরা সময়
অক্টোবর থেকে মার্চ — এই সময় আবহাওয়া শীতল ও মনোরম থাকে।
এ সময় বন্যপ্রাণী দেখা যায় বেশি, আর নদীপথে যাতায়াতও নিরাপদ।
Pirates of the Sundarban – তোমার সেরা ভ্রমণ সঙ্গী
তুমি যদি সুন্দরবন ভ্রমণকে স্মরণীয় ও ঝামেলামুক্ত করতে চাও, তাহলে Pirates of the Sundarban হতে পারে তোমার সেরা সঙ্গী।
আমাদের বিশেষত্ব:
-
নিরাপদ ও আরামদায়ক লঞ্চ
-
ফরেস্ট পারমিট ও গাইড সার্ভিস
-
দেশীয় খাবারসহ প্যাকেজ
-
বাজেট ও প্রিমিয়াম উভয় ট্যুর
-
ফটোগ্রাফি ও ভিডিও সাপোর্ট
📞 Contact for Booking:
👉 https://piratesofthesundarban.com/
SEO Focus (Keyword Optimization)
এই ব্লগটি নিচের কীওয়ার্ডগুলোকে লক্ষ্য করে লেখা হয়েছে 👇
-
মোংলা থেকে সুন্দরবনে কিভাবে যাব
-
মোংলা সুন্দরবন ট্যুর
-
সুন্দরবন ভ্রমণ গাইড
-
সুন্দরবন ট্যুর প্যাকেজ
-
সুন্দরবন দর্শনীয় স্থান
উপসংহার
সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতীক।
মোংলা থেকে সুন্দরবনে যাওয়া সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায় — এখান থেকেই শুরু হয় প্রকৃতির রোমাঞ্চকর এক যাত্রা।
তাই অপেক্ষা কিসের?
আজই বুক করো তোমার স্বপ্নের সুন্দরবন ট্যুর 👉 Pirates of the Sundarban এর সাথে।

https://shorturl.fm/FebJP
https://shorturl.fm/zwABC